বিলাসপণ্যের বাজার পুনরুদ্ধারে ধনাঢ্য মার্কিন ভোক্তাদের ওপর বড় ধরনের বাজি ধরছে লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলো। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির দৌড়ে থাকা শীর্ষ কিছু ব্র্যান্ড সৃজনশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী শেয়ারবাজার ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে চলতি বছর খাতটি গতি ফিরে পেতে পারে। খবর এফটি।
বৈশ্বিক বিলাসপণ্য বাজার ২০২৫ সালে কঠিন সময় পার করেছে, কার্যত স্থবির ছিল বিক্রি প্রবৃদ্ধি। বার্কলেস ও এইচএসবিসির বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছর খাতটির অর্গানিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে যথাক্রমে ৫-৬ ও ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
বার্কলেসের বিশ্লেষক ক্যারল ম্যাডজোর ধারণা, মার্কিন শেয়ারবাজারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিশেষ করে রেকর্ড উচ্চতায় থাকা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক চলতি বছর বিলাসবহুল পণ্য বাজারে ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সম্পদ বৃদ্ধি ও বিলাসপণ্য ক্রয়ের সম্পর্ক আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠতে যাচ্ছে।’
গত বছর সম্পদ বৃদ্ধি ও বিলাসপণ্যের বাজারের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা দেখা যায়। এতে আংশিকভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি। ক্যারল ম্যাডজোর মতে, সেই বিচ্ছিন্নতা এখন কমে এসেছে এবং অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিবেশও মার্কিন ক্রেতাদের ওপর আগের মতো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না।
গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সুইস লাক্সারি গ্রুপ রিশমঁ আমেরিকা অঞ্চলে বিক্রির দৌড়ে এগিয়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কার্টিয়ের ও ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের গহনা শক্তিশালী চাহিদা দেখেছে, প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৪ শতাংশ বেশি।
এইচএসবিসির হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন ভোক্তাদের কাছে লাক্সারি পণ্যের বিক্রি চলতি বছর ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা গত বছর ছিল মাত্র ২ শতাংশ।
কভিড মহামারী-পরবর্তী উল্লম্ফনের সময় ব্যাপকভাবে দাম বাড়ানোর পর ২০২৫ সালে ব্র্যান্ডগুলো মূল্যবৃদ্ধির গতি কমিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ডিওরে জোনাথন অ্যান্ডারসন ও শ্যানেলে ম্যাথিউ ব্লাজি পণ্যের নকশায় নতুনত্ব আনছেন। সবকিছু মিলেই বিক্রিতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এইচএসবিসির মতে, কয়েক দশকের মধ্যে চলতি বছর প্রথমবার দাম বাড়ার বদলে বেশি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো প্রবৃদ্ধির দেখা পাবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইনের পরিসংখ্যান অনুসারে, অধিকাংশ বিলাসবহুল পোশাক, ব্যাগ ও জুতার দাম ২০১৯ সালের তুলনায় এখন ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি।
তবু বিলাসপণ্য খাতে পুনরুদ্ধার নিয়ে সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। চীনের বাজারে টানা দুই বছর ধরে বিক্রি কমেছে। বেইনের পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতিটি প্রান্তিকেই দেশটিতে খাতটির পতন হয়েছে। স্থিতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও শিগগিরই আগের উচ্চতায় ফিরে যাবে এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের আগ্রাসী মূল্যবৃদ্ধিতে যেসব অপেক্ষাকৃত কম সচ্ছল ক্রেতা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তাদের ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। এ কারণে ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলক সস্তা পণ্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, এসব পণ্যের দাম সাধারণত ১-২ হাজার ডলারের মধ্যে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ‘কে-শেপড’ অর্থনীতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ দেশটির সম্পদধারী পরিবারগুলো আরো ধনী হচ্ছে এবং কম সম্পদধারীরা টিকে থাকার লড়াই করছে।